তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম |আরবি ও বাংলা উচ্চারণ সহ নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর আমল সমন্ধে পবিত্র কোরআনে উলেখ্য আছে। তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ঘুম যাওয়া আবার জাগ্রত হওয়া অর্থে বুঝানো হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলে ৭৯নং আয়াতের অর্থ এই যে, রাতের কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জেগে থাকুন ।

ইশরিয়তের পরিভাষায় রাত্রিকালীন নামাজকে তাহাজ্জুদ নামাজ বলা হয়। সাধারণত এর অর্থ এভাবে নেয়া হয় যে, কিছুক্ষণ নিদ্রা যাওয়ার পর যে নামাজ পড়া হয় তাই তাহাজ্জুদের নামাজ। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সা্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সব নফল নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাহাজ্জুদ নামাজ তথা রাতের নামাজ।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ) আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামকে বিশেষভাবে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রতিদিন অনেক মানুষ অনলাইনে অনুসন্ধান করেন তাজুদের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য। এর কারণ এই বিষয় সর্ম্পকে অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। তাহাজ্জুদের নামাজ অনেক বড় একটি আমাকে ক্ষেত্রে অনেকেই আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী আবার অনেকেই রয়েছে যারা নিয়মিত এই আমল করে থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যেমন তাজুদের নামাজের নিয়ম এর নিয়ত কিভাবে নামাজ আদায় করতে হবে সেই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন এখানে। সুতরাং আগ্রহ নিয়ে আজকের পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা রাখছি আজকের আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের সহযোগিতা করতে সক্ষম হবো আমরা।

 

তাহাজ্জুদ নামাযের সময়

অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মূল সময় মূলত রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েজ আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।

 

👉 মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

–প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই দুই রাকাআত করে এ নামাজ আদায় করতেন। যে কোনো সুরা দিয়েই এ নামাজ পড়া যায়। তবে তিনি লম্বা কেরাতে নামাজ আদায় করতেন। তাই লম্বা কেরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম।

– প্রথমে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধতে হবে ।
– অতঃপর ছানা পড়া।
– সুরা ফাতেহা পড়া।
– সুরা মিলানো তথা কেরাত পড়া।
– অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা।
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক লম্বা কেরাত পড়তেন। অতঃপর এভাবেই দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

এভাবে দুই রাকাআত করে আট রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম।

 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাযের রাকআত সংখ্যা : সর্বনিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামায আদায় করার পরে, বিতর ৩ রাকাত নামায পড়া। বেশিরভাগ সময় রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামায ৮ রাকাত পরতেন এবং এর পর বিতরের নামায পরে মোট ১১রাকাত পূর্ণ করতেন।

১। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামায সাত রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে।

২। তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ তেরো,এগারো, নয় কিংবা সাত রাকাত পড়া যায়।